দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হওয়া ১০ বছরের শিশু মুশফিকা আক্তার তাসফিয়ার নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। মাদরাসায় পৌঁছে দেওয়ার অজুহাতে নিজ হাতে শিশুটিকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছেন তার সৎ বাবা শাফিউল ইসলাম (৪০)।
ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকা অভিযুক্ত শাফিউলকে বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দিন শাফিউল শিশু তাসফিয়াকে রানীগঞ্জ বাজার থেকে ভ্যানে করে কবিরপুর ও গোবিন্দপুর হয়ে মুসিপাড়ার ঘাটে নিয়ে যায়। সেখান থেকে একটি নৌকায় চড়ে তারা ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহ সংলগ্ন করতোয়া নদীর মাঝখানে পৌঁছায়।
নদীর মাঝপথে শাফিউল প্রথমবার শিশুটিকে পানিতে ফেলে দেয়। তবে ক্ষণিকের জন্য মায়া হওয়ায় সে আবার তাসফিয়াকে টেনে নৌকায় তোলে এবং জড়িয়ে ধরে। কিন্তু তীরে ফেরার পর মুঠোফোনে স্ত্রী লিজার সাথে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে শাফিউল। স্ত্রীর ওপর ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সে দ্বিতীয়বারের মতো শিশু তাসফিয়াকে নির্মমভাবে নদীতে ফেলে রেখে স্থান ত্যাগ করে।
পরদিন সোমবার রাতে নদীতে মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে পুলিশ গিয়ে তাসফিয়ার নিথর দেহ উদ্ধার করে।
নিহত তাসফিয়া রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মমিনুল ও লিজা দম্পতির মেজো সন্তান। ২০০৭ সালে তাদের বিয়ে হয় এবং তাদের ঘরে তিন সন্তান ছিল। ২০২৩ সালে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে লিজা দিনাজপুর ঘোড়াঘাটের শাফিউলকে বিয়ে করেন এবং জীবিকার তাগিদে এই দম্পতি ঢাকায় পাড়ি জমান।
ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাফিউল নিজ হাতে সৎ মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় তাসফিয়ার আপন বাবা মমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন