দিনাজপুরের হাকিমপুর থানা পুলিশ পৃথক পৃথক বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। ১৮ ও ১৯ জুন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিন মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাকিমপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল উপজেলার বড় ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ২২ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মীর শহিদ (৩২) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। সে বড় ডাঙ্গাপাড়া (উত্তর পাড়া) এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ২৯(ক)/৪১ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, একই এলাকার বড় ডাঙ্গাপাড়া থেকে মাদক সেবনের দায়ে শাকিল (২৮), নাসির (২৮) ও মোহন (২০) নামের তিন যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(৫) ধারা মোতাবেক প্রত্যেককে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন।
পৃথক আরেকটি অভিযানে হাকিমপুর ডিগ্রী কলেজের পিছন থেকে ডাকাতির প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো—হাকিমপুর উপজেলার সিপি রোড ধরন্দা এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিন শেখের ছেলে মোঃ অন্তর রাজা (২৮) এবং ধরন্দা ফকির পাড়া এলাকার মোঃ শহিদুল ইসলামের ছেলে মোঃ কোরবান হোসেন ওরফে হৃদয়। এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া পুলিশ বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আরও ৩ জন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলে—কুড়িগ্রামের ভূরঙ্গামারী থানার একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি দক্ষিণ বাসুদেবপুর এলাকার মোঃ সালাম প্রমানিক (৪৪)। বিশেষ ক্ষমতা আইনের পরোয়ানাভুক্ত আসামি মধ্য বাসুদেবপুর এলাকার মোঃ মোনারুল হাসান শান্ত (২৯)। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অপর একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত আসামি নয়ানগর এলাকার মোঃ রফিকুল ইসলাম (৩০)।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে বিজ্ঞ দিনাজপুর আদালত এবং দিনাজপুর জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক নির্মূলে পুলিশের এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন