ঢাকার সাভারের আশুলিয়া থানাধীন বাইপাইল এলাকায় ১২ বছরের এক শিশুকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার (৩ জুন) এই ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় জনতার সময়োচিত তৎপরতায় শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে অভিযুক্ত চালককে কিছুক্ষণ আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত মাইক্রোবাস চালকের নাম মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ। তিনি রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার কেওখালি গ্রামের মৃত মর্তুজ্জামান ও রসিরা বেগমের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার বাইপাইল এলাকায় ভুক্তভোগী শিশু (১২)-কে একাকী পেয়ে চালক আব্দুল লতিফ তাকে ভালো কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।
ভুক্তভোগী শিশুটি (মেয়ে) জানায়, সে রান্না বা ঘরের কাজ পারে না, তা সত্ত্বেও লতিফ তাকে ফুসলিয়ে নিজের মাইক্রোবাসের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সে ওই চালককে আগে থেকে চিনত না। লতিফ যখন শিশুটিকে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করছিল, তখন তার আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে আশেপাশের সাধারণ মানুষ তাকে ধরে ফেলে এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের জেরার মুখে লতিফ নিজের অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হয়। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, লতিফের (ঢাকার) বাসায় তার স্ত্রী বা সন্তান কেউ থাকে না। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম কিংবা সরকারি জরুরি সেবা নম্বরে যোগাযোগ না করে কেন তিনি ১২ বছরের একটি নাবালিকা শিশুকে গোপনে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তার কোনো সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। উপস্থিত জনতার প্রশ্নের মুখে লতিফ অনুতপ্ত হয়ে বলেন, "মেয়েটি আমার মেয়ের চেয়েও ছোট বয়সী। আমার ভুল হইছে, আমি অনুতপ্ত।" ভবিষ্যতে আর কখনো এমন কাজ করবেন না বলেও তিনি আকুতি জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অভিযুক্ত চালক লতিফ উপস্থিত সবার সামনে নিজের ভুল স্বীকার করে কান্নাকাটি ও ক্ষমা প্রার্থনা করায় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ আর করবে না বলে জোড় হাত করায় স্থানীয় জনতা তাকে কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর ছেড়ে দেয়।
বাইপাইল এলাকার বাসিন্দারা জানান, ব্যস্ততম এই এলাকায় সাধারণ মানুষের একটু সচেতনতার কারণেই একটি বড় অপরাধ সংঘটিত হতে পারেনি। সময়মতো শিশুটিকে উদ্ধার করা না গেলে বড় কোনো ক্ষতি হতে পারত বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মন্তব্য করুন