উত্তরাঞ্চলের ৬ উপজেলায় চলছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। আর শহরে মিলছে চাহিদার অর্ধেক। বিদ্যুতের অভাবে সেচকাজে ঘটছে বিঘ্ন, হাসপাতালের রোগীরা প্রচণ্ড গরমে আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
জানা গেছে, দিনাজপুরের বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ি ও পার্বতীপুর উপজেলায় ৩ লক্ষাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এই ৬ উপজেলায় ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট। গড়ে অর্ধেকের বেশি সময় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়া এই ৬ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ মিলছে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ ঘণ্টা।
শনিবার দুপুরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ভর্তি রোগীরা গরমে হাঁসফাঁস করছেন। রোগীর স্বজনরা কেউ হাতপাখা দিয়ে আবার কেউ প্রেসক্রিপশন ফাইল দিয়ে বাতাস করে চলেছেন। স্বজনরা বলেন, প্রচণ্ড গরমের মাঝে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহরিয়ার পারভেজ জানান, বিদ্যুতের প্রচণ্ড লোডশেডিংয়ের কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে শ্বাস কষ্ট নিবারণে ব্যবহৃত নেবুলাইজার ও জটিল রোগীর ক্ষেত্রে অক্সিজেন কন্সানটেটর মেশিন চালানো যাচ্ছে না। এছাড়া করানো যাচ্ছে না পরীক্ষা-নিরীক্ষা, সৃষ্টি হয়েছে পানি সংকট। বিরামপুর পেশাজীবী ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, আমাদের এলাকার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমরাই পাচ্ছি না। বিদ্যুৎ বিভাগের বিমাতাসুলভ পদক্ষেপে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি।
এলাকার বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা বাণিজ্য ও কৃষির সেচকাজে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ অবস্থার উত্তরণ না ঘটলে আমরা আন্দোলনের কর্মসূচিতে যাব। উপজেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের মোহনপুর গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন মণ্ডল বলেন, গ্রাম এলাকায় আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান বলেন, এই সমিতির গ্রাহকদের ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি। এলাকার মানুষের দুর্ভোগে কোনরকম সহমর্মিতা না দেখিয়ে তিনি বলেন, এখানে আমার কোনো করণীয় নেই।
মন্তব্য করুন