ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন বজায় রাখতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে জানিয়ে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের সম্পদ লুণ্ঠনকারী ও অর্থ পাচারকারীদের কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। যারা ভাবছেন দুষ্কৃতকারীরা বিচারের আওতার বাইরে থাকবে, তারা আসলে গুজব ছড়াচ্ছেন এবং সত্যিকার অর্থে দেশের বিপক্ষে কাজ করছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের যৌথ বাস্তবায়নে আয়োজিত ‘উপজেলা পর্যায়ে স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ব্যাংক পরিচালনায় রাজনীতিকরণের তীব্র সমালোচনা করে মন্ত্রী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ব্যাংক পরিচালনার নামে কোনো ধরনের রাজনীতিকরণ বা বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। ব্যাংকিং খাত এমন একটি সংবেদনশীল জায়গা, যেখানে কঠোর শৃঙ্খলা থাকা আবশ্যক। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্য বা ব্যাংক পরিচালনার আড়ালে যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে যথাযথ ও কঠোর ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান তিনি।
অর্থ পাচার ও ব্যাংক খাতের অতীতের অনিয়মের খতিয়ান তুলে ধরে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, "গত ১২ই ফেব্রুয়ারি আমরা যখন দেশের পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি, তখন প্রায় ৩০ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বিশাল দায় মাথায় নিয়ে কাজ শুরু করতে হয়েছে। যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছে এবং ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে, তাদের সাথে বর্তমান সরকারের কোনো আপস নেই। তবে একই সাথে আমরা ব্যাংকের প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের (Shareholder) আশ্বস্ত করতে চাই, আপনাদের আইনগত অধিকার যাতে পূর্ণাঙ্গভাবে সুরক্ষিত থাকে, সেটি সরকার নিশ্চিত করবে।"
দেশের ব্যাংকিং খাতের অতীত ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েই দেশের ব্যাংকিং খাতে প্রথম শৃঙ্খলা ও সুশাসন এসেছিল। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলে তৎকালীন সফল অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের হাত ধরে এই খাতে শৃঙ্খলা বজায় ছিল।" তিনি অভিযোগ করে বলেন, যখনই অন্য কোনো দল ক্ষমতায় এসেছে, তখনই শেয়ার বাজার ও ব্যাংক খাতে ব্যাপক লুটপাট হয়েছে এবং ব্যাংক খালি হয়ে গেছে। বর্তমান সরকার সেই দায় টেনে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিচ্ছে।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল আল মামুন কাওসার শেখের সভাপতিত্বে এবং ঘোড়াঘাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এস এম মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মোঃ আলাউদ্দীন আল আজাদ, হাকিমপুর-ঘোড়াঘাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ.ন.ম নিয়ামত উল্লাহ, ঘোড়াঘাট থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহ্ মো. শামীম হোসেন চৌধুরী, পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মিলন এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ধ্বীরাজ সরকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দিনব্যাপী এই ইনোভেশন ও বিজ্ঞান প্রদর্শনী প্রতিযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৫টি স্টল অংশ নেয়। বিচারকদের চূড়ান্ত মূল্যায়নে প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে ঘোড়াঘাট কেসি পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে রানীগঞ্জ সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে বরাতীপুর মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বিজয়ী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেন।
মন্তব্য করুন