দিনাজপুরে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের বিরোধকে কেন্দ্র করে দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে ও বিকেলে কোতোয়ালি থানার সামনে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি বাস ও একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়। ভাঙচুর করা হয়েছে অন্তত ১০টি বাস।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত থেকে শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে আটকের প্রতিবাদে পরিবহন শ্রমিকদের একটি অংশ সড়কে বাস রেখে অবরোধ শুরু করে। এর জেরে দিনাজপুর থেকে আন্তঃজেলা ও ঢাকাগামী বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিপাকে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একদল শ্রমিক কোতোয়ালি থানার সামনে অবস্থান নিলে অপর পক্ষের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ৭ থেকে ৮ জন শ্রমিক আহত হন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর বিকেল ৩টার দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে আরেকটি শ্রমিক দল থানার সামনে আসার পর ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় দ্বিতীয় দফার সংঘর্ষ। এতে আরও ৬ থেকে ৭ জন শ্রমিক আহত হন।
সংঘর্ষের সময় থানার সামনে অবরোধ করে রাখা এসআর পরিবহনের একটি নৈশ কোচ ও এইচএ এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ ছাড়া মাছরাঙা টেলিভিশনের এক ক্যামেরাপার্সনের মোটরসাইকেলেও আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সময় অন্তত ১০টি বাস ভাঙচুর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে শ্রমিক নেতা শেখ বাদশাকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা থেকে আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার রাত ৯টার দিকে দিনাজপুর সদর উপজেলার শেখপুর ইউনিয়নের গাবুড়া বটতলী বাজার এলাকা থেকে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদশাকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ১১টার দিকে শ্রমিকদের একটি অংশ কোতোয়ালি থানার সামনে, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, কেন্দ্রীয় ট্রাক টার্মিনালসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাস রেখে অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে শেখ বাদশার মুক্তির দাবিতে থানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করে তারা।
শ্রমিকদের দাবি, দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন শেখ বাদশা। তাকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে রাখতে পুলিশ হয়রানি করছে এবং সেই উদ্দেশ্যেই তাকে আটক করা হয়েছে।
তবে পুলিশের দাবি, শেখ বাদশার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে।
দিনাজপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, শেখ বাদশাকে আটকের পর থেকেই তার মুক্তির দাবিতে শ্রমিকদের একটি অংশ বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে আসছিল। বৃহস্পতিবার তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতির সময় শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। এর জেরেই সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, বাস ও মোটরসাইকেলে আগুন এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে মির্জাপুর বাস টার্মিনাল ছাড়া অন্যান্য এলাকায় বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
মন্তব্য করুন