দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে জমি সংক্রান্ত বিরোধের সংবাদ প্রকাশের পর সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাককে হয়রানি, মামলায় জড়ানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও প্রতিকারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের স্বাক্ষরিত লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাক জানান, গত ৩০ জুলাই সকালে ঘোড়াঘাট উপজেলার নুরপুর গ্রামে জালকাটা জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কয়েকজনের মারধরের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি। পরে সাংবাদিক হিসেবে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী মমিন উদ্দিন ও তার বোনদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ঘটনার ভিডিও, ছবি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য সংগ্রহের পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য নেন।
পরে সংগৃহীত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তিনি ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। গত ৩০ জুলাই দৈনিক প্রথম সংবাদ সারাক্ষণ পত্রিকায় সংবাদটি প্রকাশিত হয়। এরপর নিজের ফেসবুক আইডিতেও প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেন বলে জানান তিনি।
আব্দুর রাজ্জাকের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই বিরোধী পক্ষের তাজমল হোসেন ওরফে বাবলুসহ কয়েকজন তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি সুযোগ পেলে তার জীবন শেষ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় ভুক্তভোগী মমিন উদ্দিন বাদী হয়ে গত ২ আগস্ট তাজমুল হোসেন ওরফে বাবলু (৪৫)সহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় ঘোড়াঘাট আমলি আদালতে সিআর ১৪৪/২৬ নম্বর মামলা করেন।
এর কয়েকদিন পর, গত ৬ আগস্ট মৃত পানজু আকন্দের ছেলে বাবুল মিয়া বাদী হয়ে সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাককে প্রধান আসামি করে একই আদালতে সিআর ১৪৬/২৬ নম্বর মামলা করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সাংবাদিক আব্দুর রাজ্জাকের দাবি, সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের কারণে তাকে হয়রানি এবং চাপের মধ্যে রাখতেই ওই মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে মামলা দুটির তদন্ত ঘোড়াঘাট থানায় চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে হয়রানি ও মামলার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন আব্দুর রাজ্জাক। পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
তবে সাংবাদিকের করা অভিযোগ ও মামলায় তাকে আসামি করার বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মামলাগুলোর তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন