গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কমরপুর হাটে অবস্থিত একটি হাফিজিয়া ও এতিমখানা মাদ্রাসার প্রবেশপথেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার না করায় পচা আবর্জনার তীব্র দুর্গন্ধে মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদ্রাসার ঠিক সামনেই বাজারের নানা ধরনের বর্জ্য ও ময়লা ফেলে বড় স্তূপ তৈরি করা হয়েছে। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দ্বীনি শিক্ষায় মগ্ন থাকা ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের সারাক্ষণ রুমাল দিয়ে নাক চেপে থাকতে হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যেখানে ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার কথা, সেখানে এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হাট-বাজারের যাবতীয় বর্জ্য পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় মাদ্রাসার সামনেই ফেলা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবর্জনা সরাতে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বৃষ্টির দিনে এই ময়লা পচে পানি নর্দমায় মিশে দুর্গন্ধ আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "আমরা এখানে শান্তিতে নামাজ পড়তে বা চলাচল করতে পারি না। বাতাসের সাথে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে সরাসরি মাদ্রাসার ভেতরে ঢোকে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত এই ময়লা সরিয়ে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া হোক।"
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, ময়লার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত এই ভাগাড় অপসারণ করে এলাকাটি জীবাণুমুক্ত করার জন্য তারা স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবেশ দূষণ রোধ এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শীঘ্রই কঠোর ব্যবস্থা নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।
মন্তব্য করুন